বাইতুল হিকমাহ্ ইনস্টিটিউট
নামকরণের অনুপ্রেরণা।
“বাইতুল হিকমাহ ইনস্টিটিউট”-এর নামকরণ করা হয়েছে ইসলামি ইতিহাসের সেই স্বর্ণালী অধ্যায় থেকে, যা আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল — বাইতুল হিকমাহ্ (House of Wisdom)।
সেই সময়টি ছিল মুসলিমদের জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সভ্যতার উজ্জ্বলতম যুগ।
বাইতুল হিকমায় কুরআন ও হাদীসের পাশাপাশি গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, দর্শন, চিকিৎসা, প্রকৌশল, ভাষা ও দর্শনের মতো প্রতিটি জ্ঞানের ক্ষেত্রেই গভীর গবেষণা হতো।
সেখান থেকেই জন্ম নিয়েছিল ইবনে সিনা ও আল-জাজারি মত হাজারো আবিষ্কারক, ইবনে খালদুন ও ইবনে রুশদের মত অগণিত চিন্তাবিদ, এবং সেই জ্ঞানই আলো ছড়িয়েছিল বাগদাদ থেকে শুরু করে সমগ্র পৃথিবীতে।
কিন্তু মঙ্গোলিও আক্রমণে সেই প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যায় যার ক্ষতি আজও মুসলিম সমাজ পূরণ করতে পারেনি।
সেই সময় একজন ইঞ্জিনিয়ার শুধু যন্ত্রবিদ ছিলেন না— তিনি ছিলেন ঈমান ও নৈতিকতার প্রতীক; একজন চিকিৎসক ছিলেন শরীরের পাশাপাশি আত্মারও চিকিৎসক।
আজ সেই ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে।
বর্তমানে মুসলিম ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা নেতা— অনেকে পশ্চিমা শিক্ষায় দক্ষ হলেও ইসলামি চিন্তা ও চেতনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অন্যদিকে আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা, যদিও ইসলামী জ্ঞানে সমৃদ্ধ, তবুও আধুনিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, নেতৃত্ব, ও ব্যবস্থাপনা জ্ঞানে পিছিয়ে আছে।
ফলস্বরূপ— মুসলিম উম্মাহর শক্তি আজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কেউ জ্ঞানে এগিয়ে, কেউ ঈমানে; কিন্তু একত্রে দুই জগতের সমন্বিত শিক্ষা খুবই বিরল।
আমাদের দৃষ্টি ও লক্ষ্য
বাইতুল হিকমাহ ইনস্টিটিউট সেই হারিয়ে যাওয়া ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চায়।
আমাদের উদ্দেশ্য হলো এমন এক প্রজন্ম তৈরি করা যারা হবে আলেম, কিন্তু পাশাপাশি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী ও চিন্তাবিদ;
যাদের মধ্যে থাকবে গভীর ধর্মীয় জ্ঞান ও আধুনিক বিজ্ঞানের বোধ;
যারা নিজেদের ক্যারিয়ারে সফল হবে, একইসাথে ইসলাম ও মানবতার খেদমতে নিবেদিতপ্রাণ থাকবে।
আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা হোক এমন মুসলমান, যারা আধুনিক জ্ঞানে দক্ষ থেকে ইসলামি মূল্যবোধে দৃঢ় থাকবে এবং উম্মাহর পুনর্জাগরণের নেতৃত্ব দেবে।
